বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য আর লোকজ সংস্কৃতির নতুন বার্তা নিয়ে কুড়িগ্রামে সম্পন্ন হলো মুখোশ তৈরির কর্মশালা মুখোশ-মানুষ। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ (২০২৬ খ্রিস্টাব্দ) উদযাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিজস্ব সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং তাদের সৃজনশীল প্রতিভাকে বিকশিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
স্টুডেন্ট ম্যাগাজিন ও সৃজনশীল সংগঠন হিজিবিজি এবং শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘর কুড়িগ্রাম-এর যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।









কর্মশালায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও তরুণদের কাগজ ও জলরং ব্যবহার করে লোকজ মুখোশ তৈরির ব্যবহারিক কৌশল শেখানো হয়। প্রশিক্ষক অনীক রেজা -র নিবিড় তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণকারীরা নিজ হাতে ফুটিয়ে তোলে বাঙালির লোকসংস্কৃতির চিরচেনা সব মোটিভ—যার মধ্যে ছিল পেঁচা, বাঘ, গ্রামীণ লোকজ অবয়ব এবং ঐতিহ্যবাহী নানা পুতুলের আকৃতি।
আয়োজকরা জানায়, নতুন প্রজন্মের মাঝে ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরে গিয়ে মা ও মাটির সাথে মিশে লোকজ কারুশিল্পের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করাই ছিল এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য। এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি বর্ণিল মুখোশগুলোই পরবর্তীতে পহেলা বৈশাখের দিন কুড়িগ্রাম শহরের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রায়’ প্রদর্শন করা হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে হিজিবিজি সম্পাদক রাজ্য জ্যোতি বলেন, “আমাদের নিজস্ব শিল্প সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে এই ধরনের উৎসবমুখী কর্মশালা প্রতি বছরই আয়োজন করা প্রয়োজন। তরুণদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তারা শিকড়কে ভুলে যায়নি।”
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী সকল ক্ষুদে শিল্পীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।